সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

যাত্রাপথে বমি হয় কেন? প্রতিরোধে যা করবেন……

 যাত্রাপথে বমি হয় কেন? 

প্রতিরোধে যা করবেন……



মোশন সিকনেস কেন হয়?

আসলে গতি ও জড়তার ফলে মস্তিষ্কে সমন্বয়হীনতার বাহনগুলোতে বমির সমস্যা হয়ে থাকে। অন্তঃকর্ণ আমাদের শরীরের গতি ও জড়তার ভারসাম্য রক্ষা করে। যখন কেউ কোনো যানবাহনে চলাফেরা করেন তখন অন্তঃকর্ণ মস্তিষ্কে খবর পাঠায় যে সে গতিশীল।

তবে চোখ বলে ভিন্ন কথা। কারণ তার সামনের বা পাশের মানুষগুলো কিংবা গাড়ির সিটগুলো থাকে স্থির। আমাদের চোখ আর অন্তঃকর্ণের এই সমন্বয়হীনতার কারণেই মোশন সিকনেস হয়। এছাড়া অ্যাসিডিটি, অসুস্থতা কিংবা গাড়ির ধোঁয়া কিংবা বাজে গন্ধের কারণেও গাড়িতে বমি হতে পারে।

মোসন সিকনেস প্রতিরোধে কী করণীয়?

>> যাদের এ সমস্যা আছে তারা গাড়ির উল্টো দিকের সিটে কখনো বসবেন না। কারণ উল্টোদিকে বসলে এতে বমিভাব বেশি হয়। চেষ্টা করবেন গাড়ির সামনের দিকে বসার। কারণ পেছনে বসলে গাড়িকে বেশি গতিশীল মনে হয়, ফলে দ্রুত ভারসাম্য নষ্ট হয় ও মোশন সিকনেস দেখা যায়।


>> চেষ্টা করবেন জানালার পাশে বসার ও জানালা যেন খোলা থাকে। এসি পরিবহন হলে এক্ষেত্রে অবশ্য কিছু করার নেই। আর জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকার চেষ্টা করুন। এতে মোশন সিকনেস হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।


>> বমি করার কথা চিন্তা করবেন না এতে বমির ট্রিগার হতে পারে। আপনার পাশে সহযাত্রী থাকলে তার সঙ্গে গল্প করুন, কথা বলুন। তবে খেয়াল রাখবেন অবশ্যই যাত্রাপথে কারো দেওয়া কোন খাবার গ্রহণ করবেন না। এতে বিপদ হতে পারে ও আপনার যাত্রা অনিরাপদ হতে পারে।


>> চোখ বন্ধ রাখতে পারেন কিংবা ঘুমিয়ে পড়ুন। যাত্রার আগের দিন ঠিকমতো ঘুম হওয়া জরুরি। অনেক সময় ঠিকভাবে ঘুম না হওয়ার কারণে মাথাব্যথাও বমির কারণ হতে পারে।


>> গাড়িতে ওঠার আগে হালকা কিছু নাস্তা খেতে পারেন। কখনো খালি পেটে ভ্রমণ করবেন না। আবার ভ্রমণের আগে বেশি খাবার খাবেন না। যাত্রাপথে যত কম খাবেন ততই ভালো।


>> বমি ভাব দূর করার জন্য আদা, লেবু, দারুচিনি, লবঙ্গ, তেঁতুল চাটনি, আচার, কমলা বা টকজাতীয় যে কোনো ফল খেতে পারেন যাত্রাপথে। এতে বমিভাব কাটবে। লেবু পাতাও সাথে রাখা যেতে পারে এর সুঘ্রাণ বমি ভাব দূর করে দিবে। চুইংগাম, লজেন্স খেতে পারেন। এতে বমি ভাব হবে না।


>> বয়স্ক নারী ও গর্ভবতী নারীদেরকে যাত্রাকালে পথে বিশেষ যত্ন রাখতে হবে।


>> বমিরোধে কিছু সাধারণ ওষুধ সঙ্গে রাখতে পারেন। বাজারে জয়ট্রিপ নামে পাওয়া যায়। অথবা অনডেনসেট্রন জাতীয় ওষুধ গাড়িতে ওঠার আগে ও খাবার আগে খেয়ে নিতে পারেন। ডমপেরিডনজাতীয় ওষুধও খাওয়া যেতে পারে। তবে যে কোনো ওষুধ খাওয়ার আগে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিন।


যারা মোশন সিকনেস নিয়ে খুব বেশি সমস্যায় আছেন ও বারবার এ সমস্যায় ভুগছেন তাদের উচিত দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। যাত্রা পথে খোলা খাবার গ্রহণ না করবেন না। সবার ভ্রমণ সুন্দর হোক এই কামনায়।


লেখাঃ ডা. রিফাত আল মাজিদ,

জনস্বাস্থ্য গবেষক ও চিকিৎসক, উপ-পরিচালক, সেন্টার ফর ক্লিনিক্যাল এক্সিলেন্স অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ।


Follow BigyanPoka on Facebook 

মন্তব্যসমূহ

Popular post

দোয়েলকে আমাদের জাতীয় পাখি বলা হয় কেন?

  দোয়েলকে আমাদের জাতীয় পাখি বলা হয় কেন? এ বিষয়ে বরেণ্য পাখি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক বলেন, ' প্র থম কথা, জাতীয় কিছু করা মানে অর্থাৎ পশু, পাখি, বৃক্ষ, ফল ইত্যাদি সিম্বলিক (প্রতীক) ব্যাপার মাত্র। এটাকে সৌখিনও বলা হয়। সৌখিনতার চাইতে আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ দিক নেই। এখানে শুধু দুটো জিনিস সাধারণত ভালো করে দেখা হয়। প্রথমটি হলো- ওই দেশে ওই জিনিসটা বেশি সংখ্যক রয়েছে কি-না? প্রচুর সংখ্যক থাকার অর্থই হলো ওই দেশকে সে রিপ্রেজেন্ট (উপস্থাপন) করছে। যেমন ধরা যাক ইলিশ মাছের কথা। যে কোনো মাছের নাম জানে না সেও ইলিশ মাছের নাম জানে। এই মাছটি এতো ব্যাপকভাবে পরিচিত যে আমরা সবাই এর নাম জানি। ওই পাখিটিরও এমনই ব্যাপক পরিচিত এবং জনপ্রিয় থাকতে হবে। লোকের মুখে মুখে হতে হবে। তবেই সেটি জাতীয় বলে অখ্যায়িত হওয়ার চূড়ান্ত যোগ্যতা রাখে। দ্বিতীয়ত, অন্য কোনো দেশ এটিকে তাদের জাতীয় করে ফেলেছে কি-না, সেটি দেখা। যদি দোয়েল ভারতের জাতীয় পাখি হতো, তবে বাংলাদেশ কখনোই তাকে জাতীয় পাখি হিসেবে তালিকাভুক্ত করত না। অধিক পরিচিতি এবং অন্য কোনো দেশ এটিকে জাতীয় হিসেবে আগেই তালিকাভুক্ত করেছে ক...

সফল ব্যক্তিরা প্রতিদিন একই পোশাক পরেন কেন?

  সফল ব্যক্তিরা প্রতিদিন একই পোশাক পরেন কেন? ★ সময়ের অপচয় রোধঃ যখন আমাদের অনেক কাপড় থাকে, তখন আমরা সহজেই বিভ্রান্ত হই এবং কোন পোশাকটি পরবো তা বেছে নিতে সময় লাগে। কিন্তু যদি আপনার পোশাকে শুধুমাত্র কালো টি-শার্ট এবং একই রঙের জিন্স থাকে তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছু নেই। আপনি সময় বাঁচাতে পারবেন এবং আরও উত্পাদনশীল হয়ে উঠতে পারবেন। ★ খরচ কমায়ঃ নানা ধরনের পোশাক কিনলে অর্থ অপচয় বেশি হবে। এইক ধরনের পোশাক পরার সিদ্ধান্ত নিলে আপনাকে খুব বেশি পোশাক কিনতে হবে না। আর এই পোশাকের দাম যেহেতু আপনার জানা, তাই কিনতে গিয়ে ঠকে যাওয়ারও ভয় নেই। অযথা খরচ কমানো গেলে তা আপনাকে আরও অনেক বিষয়ে সাশ্রয়ী হওয়ার পথ বাতলে দেবে। ★ গুণমানঃ যেহেতু আপনি একই ধরনের পরবেন, তাই আপনার পোশাকের মান এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেরা কোনো ব্র্যান্ড থেকে কেনাকাটা করুন, যে ব্র্যান্ডগুলো আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সেগুলোই নির্বাচন করুন। এতে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন যে আপনার জামাকাপড় উত্কৃষ্ট। সেই আত্মবিশ্বাস আপনার মুখেও দেখা যাবে। ★ অদ্বিতীয়ঃ প্রতিদিন একই পোশাক পরার মাধ্যমে আপনি সবার থেকে আলাদা হয়ে দাঁড়ান এবং আপনাকে একশোজন ম...

পিরামিডের দেশ মিশরের থেকেও বেশি পিরামিড সুদানে।

  পিরামিডের দেশ মিশরের থেকেও বেশি পিরামিড সুদানে।   শুনতে অবাক লাগলেও, সবচেয়ে বেশি পিরামিডের দেশ নয় মিসর। সর্বাধিক পিরামিডের মালিক দেশটির নাম সুদান।  মিসরে পিরামিডের সংখ্যা ১৩৮ , সেখানে  সুদানে পিরামিডের সংখ্যা ২৫৫ । সুদানের পিরামিডগুলো তৈরি হয়েছে  খ্রিস্টপূর্ব এক হাজার ৭০ থেকে ৩৫০ অব্দে , কুশ নামের রাজাদের শাসনামলে। তবে এগুলো তৈরি হয়েছে মিসরে পিরামিড তৈরি হওয়ার রেওয়াজ চালু হওয়ার ৫০০ বছর পরে। মিসরের শ্রেষ্ঠত্ব উচ্চতায়ও। কুশি পিরামিডগুলোর উচ্চতা ছয় থেকে ৩০ মিটার (২০ থেকে ৯৮ ফুট) পর্যন্ত। যেখানে মিসরের পিরামিডগুলোর গড় উচ্চতা ১৩৮ মিটার বা ৪৫৩ ফুট। তবে সবচেয়ে উঁচু পিরামিডটিও কিন্তু মিসরে নয়; বরং মেক্সিকোয়।আর কুশি পিরামিডগুলোর বহির্গাত্র সমান নয়; বরং ধাপযুক্ত। অন্যদিকে মিসরের পিরামিডগুলোর বহির্গাত্র মসৃণ। দুই দেশেই কিন্তু একই উদ্দেশ্যে পিরামিড তৈরি করা হয়েছে। শবদেহের আধার হিসেবে। তবে সুদানের পিরামিডগুলো নিয়ে বেশি গবেষণা হয়নি এখনো। অনেক প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজা বাকি। যেমন মিসরিদের মতো একই পদ্ধতিতে কি পিরামিডগুলো তৈরি? বা একেকটি পিরামিড তৈরিতে সময় কেমন লেগেছে? আনন্দে...